খুলনার দাকোপে সুন্দরবন ও সংশিষ্ট জলজ বাস্ততন্ত্রে দূষণ প্রতিরোধ ও বিশ মুক্ত মাছ ধরা বিষয়ে যৌথ পরিদর্শন

স্বপন কুমার রায় খুলনা ব্যুরো প্রধান

   

খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়ির ডাবুর এলাকায় সুন্দরবন ও সংশিষ্ট জলজ বাস্ততন্ত্রে দূষণ প্রতিরোধ ও বিশ মুক্ত মাছ ধরা বিষয়ে এক যৌথ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরণ্যক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগীতায় রিহ্যাবিলাইটেশন ইমপ্লয়মেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফর দি ইয়ুথস (রেডি) এর বাস্তবায়নে ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টারদিকে এই যৌথ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

রিহ্যাবিলাইটেশন ইমপ্লয়মেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফর দি ইয়ুথস (রেডি) এর সহকারি প্রকাল্প ব্যবস্হাপক শেখ মারুফ হোসেনের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্হিত ছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ এর ঢাংমারি স্টেশন এর অধীন লাউডোব টহল ফাড়ীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মোঃ আলাউদ্দিন মোল্লা, রেডির নির্বাহী পরিচালক প্রনয় বাড়েই  ,মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় সহকারী সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, সংশিষ্ঠ প্রকল্প ব্যাবস্হাপক শেখ মাসুম, বন বিভাগের অন্যন্য কর্মকর্তা, বনজীবি,মৎস্যজীবি জেটিবোর্ড চালক, টুরিস্ট গাইড, টুরিস্ট এজিন্সির প্রতিনিধি,পরিবেশ কর্মি, গণমাধ্যম কর্মি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণমান্য ব্যক্তি বর্গ, সহ প্রমূখ। এসময় সঞ্চালক শেখ মারুফ হোসেন বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যনগ্রোভ এলাকা। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এই বন পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইকোসিস্টেম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের প্রতিরক্ষা ঢাল হিসাবেো কাজ করে আসছে সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্টি হওয়া যেকোন ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে এই সুন্দরবন। 

মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কারী সম্পাদক স্বপন কুমার রায় বলেন, প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ বর্গ কিলোমিটারের বেশি যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। সুন্দরবনের তিনভাগের প্রায় একভাগ জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ১৩টি বড় নদ-নদীসহ ৪৫০টির মতো খাল। এসব নদী-খালে অনেক জেলে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে যা সুন্দরবনের প্রাণ-বৈচিত্রের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বিষ দিয়ে মাছ শিকার। এ ছাড়া বিষ প্রয়োগকৃত পানি পান করে বাঘ, হরিণসহ বনের নানা প্রাণীও বিভিন্নভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এইসব অসাধু জেলেদের জন্য সুন্দরবনের শুধু মাছ নয়, মূল্যবান বনজ ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষ দিয়ে শিকার করা মাছ পুরো বাংলাদেশে বিক্রি হয়।  যেসব খালে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, তার বিষক্রিয়া ঐ এলাকায় চার মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত থাকে। এসময় বক্তরা বলেন, সুন্দরবন আমাদের সকলের আসুন আমরা সকলে সুন্দরবনের খাল ও নদী থেকে প্লাস্টিক সামগ্রী অপসারন করি ও অন্যকে উৎসাহিত করি। আসুন সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করি ও অন্যকে উৎসাহিত করি। সুন্দরবন ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকবো। সুন্দরবনের পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র রক্ষায় এগিয়ে আসি।

Leave a Reply