কক্সবাজারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

কক্সবাজার প্রতিনিধি :-

কক্সবাজারে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’- এর ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী পুস্তিকা, লিফলেট ও বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৭ জুন র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৫ এবং র‍্যাব-৭ এর যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জামালপুরের ইসলামপুর এলাকার আব্দুল ওহাবের ছেলে মোঃ জাকারিয়া মন্ডল (১৯), ভোলার বোরহান উদ্দিন এলাকার মো: নুরুল আমিনের ছেলে মোঃ নিয়ামত উল্লাহ (২১) ও ফেনীর সোনাগাজী এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ ওজায়ের (১৯)। তারা তিনজনই মাদ্রাসা ছাত্র এবং তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘আস-শাহাদাত’ গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

জাকারিয়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াস্থ একটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। সে আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী ‘আস-শাহাদাত’ গ্রুপের ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলের দাওয়াতি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত। গ্রেপ্তারকৃত নিয়ামত এবং গ্রেপ্তারকৃত ওজায়ের চট্টগ্রামের পটিয়ার একটি মাদ্রাসার কিতাব শাখায় অধ্যয়নরত।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে কমান্ডার আরাফাত ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর সক্রিয় সদস্য। তারা আফগানিস্থানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ যোগদান করে। র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের ফলে আনসার আল ইসলাম এর কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়ে। আনসার আল ইসলামের নামে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যহত হচ্ছে বিধায় তাদের কার্যক্রমকে চলমান রাখতে আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী ‘আস-শাহাদাত’ নামে নতুন একটি জঙ্গি গ্রুপ তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এই গ্রুপটি পার্শ্ববর্তী একটি দেশ হতে পরিচালিত হচ্ছে এবং এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক ৮৫ থেকে ১০০ জন। এই গ্রুপটির উদ্ভাবক হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক হাবিবুল্লাহ এবং কথিত আমির সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, তারা বাংলাদেশকে এই সংগঠনের একটি শাখা বলে দাবি করে। এই গ্রুপটির বাংলাদেশের আঞ্চলিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির ছিলেন র‌্যাব কর্তৃক পূর্বে গ্রেপ্তাররকৃত ইসমাইল হোসেন। এই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে উক্ত সংগঠনে যোগদান করে। পরবর্তীতে তারা আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘আস-শাহাদাত’ গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা।

এই ৩ জন কক্সবাজারে একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে বৈঠকের জন্য এসেছিল বলেও জানান র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply