অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে পুকুর খনন

স্টাফ রিপোর্টার:


রাজশাহীর বাঘায় বেড়েই চলেছে এক শ্রেণীর অসাধু পুকুর ব্যবসায়ীর দৌরাত্ব। এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে অসংখ্য ফসলি জমি ও বড় বড় আমের বাগান কেটে পুকুর
খনন করে সাবাড় করা হচ্ছে আবাদি জমি। উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত এবং থানা পুলিশের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে পুকুর খনন।

জানাযায়, উপজেলার নওটিকা- আরিফপুর, বলরামপুর, তেঁথুলিয়া সিকদারপাড়া, সোনাদহ, আড়ানী দাইড়পাড়া ও স্টেশন এলাকায় দিনে-রাতে দেদারসে চলছে পুকুর খননের কাজ। এছাড়াও চলতি বছরে মনিগ্রাম, আড়পাড়া, বলিহার ,আমোদপুর, সিকদার পাড়া, আরিফপুর, তেঁথুলিয়া মাঝপাড়া, হরিনা, দীঘা, বাউসা, হরিপুর ও খাগরবাড়ি এলাকায় এ বছরে অসংখ্য জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। এসব মাঠে এখনো একাধিক পুকুর খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাঘা উপজেলায় স্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে এসব মাঠে আবাদি জমি কেটে একযোগে প্রায় ১০টি পুকুর খনন করছে প্রভাবশালী মহল। তারা আরও জানান, ওই প্রভাবশালী মহলের নিজেদের কোনো জমি নেই। তারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে টাকার বিনিময়ে রাতের আঁধারে পুকুর খনন করছে। সহজ সরল জমির মালিকরা প্রলোভনে পড়ে প্রভাবশালী মহলকে প্রাধাণ্য দিয়ে পুকুর খননে রাজি হলেও সাময়িক লাভের চেয়ে
বেশী লোকসানে পড়তে হচ্ছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলেছে অবৈধ পুকুর খনন। যেখানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে, সেখানে এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাটি বিক্রির উল্লাসে মেতে উঠেছে
প্রভাবশালী মহল। অন্যের জমি খননের দায়িত্ব নিয়ে টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছে। এমনকি পুরাতন পুকুরগুলি সংস্কারের কথা বলে ভাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে মাটি। আর এই মাটি পরিবহনের সময় রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সরকারি রাস্তা। একপশলা বৃষ্টিতে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে দূর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে অনেকেই।

সরেজমিনে নওটিকা-আরিফপুর বিলে ধান কাটতে ব্যাস্ত থাকা এক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে অনেকেই এই বিলে ধানের চাষ করেছে। এ বছর ধানের বিঘা প্রতি চল্লিশ মন হারে ফলন পাওয়া গেছে। বিলে এভাবে পুকুর খনন চলতে থাকলে চাষাবাদ ব্যাহত হবে বলেও তিনি জানান।

বাজুবাঘা ইউনিয়ন কৃষক লীগ নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা সাধারণ কৃষক খেটে খাওয়া মানুষ, আমরা ফসিল জমিতে পুকুর চাইনা। আমরা সবসময় ফসলি জমিতে ফসল ফলাতে চায়। বাজুবাঘা ইউনিয়নের কোন বিলে পুকুর খনন করা চলবেনা কারন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফসলি জমিতে পুকুর খনন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ অঞ্চলের কৃষকদের দাবি, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে পদ্মা নদীর সংযোগ ক্যানাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আবারও আবাদে ফিরতে পারবে তারা।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জানান, কোন ভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া যাবে না, এদের কোন ছাড় নেই। ডিসি স্যারের নির্দেশে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেছি যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply