
শাকিল, স্টাফ রিপোর্টার :-
গাজীপুরের টঙ্গী খাঁ পাড়া এলাকায় সরকারি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মালিকানা দাবি করে এক পক্ষ দাফনে বাধা দেয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৪ দশক ধরে ১১ বিঘা সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা এই কবরস্থানে রয়েছে সাত শতাধিক কবর। বিভিন্ন সময়ে সরকারি বরাদ্দে স্থাপন ও সংস্কার কাজও হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া জমিটিকে সম্প্রতি মালিকানা দাবি করে বন্ধ করার উদ্যোগ নেয় একটি পক্ষ।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে জমির মালিক দাবি করে কবরস্থানের প্রবেশমুখে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। পরে কবরস্থানের দায়িত্ব দেওয়া হয় আকরাম হোসেন নামে আরও এক ব্যক্তিকে। সম্প্রতি এক মৃত ব্যক্তির দাফনের সময় বাধা সৃষ্টি হলে কবর খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করা সত্ত্বেও পরিবারটিকে লাশ অন্যস্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করে উঠে আসা মালিকানার দাবিকে কেন্দ্র করে কবরস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কবরস্থানটি সরকারি খাস জমি দাবি করে স্থানীয় প্রশাসনও কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
তদন্তে জানা যায়—১৯৯৪ সালে নাছির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সরকারি খাস জমির ওপর মামলা করেন, যেখানে বিবাদী হয় সরকার। প্রায় ৩২ বছর ধরে মামলাটি উচ্চ আদালতে চলমান। মৃত্যুর পর বাদীর পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন আতাউর রহমান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ—অদৃশ্য প্রভাবের বলয়ে কয়েকবারই মামলার রায় গেছে মালিকপক্ষ দাবি করা ব্যক্তিদের অনুকূলে। প্রশাসনও এ বিষয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।
৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক বলেন, “আমরা জন্মের পর থেকেই এ জায়গাকে খাস জমির কবরস্থান হিসেবে জানি। এলাকায় কবরস্থানের জায়গা সংকট। এখন একদল লোক মালিক দাবি করে দাফনেও বাধা দিচ্ছে।”
মালিকপক্ষ দাবি করা আতাউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা আকরাম হোসেন বলেন, “এটা আমার সম্পদ নয়, আমি শুধু দেখভাল করি। দাফনে আমি বাধা দিইনি, মালিক দিয়েছে।”
এ বিষয়ে গাজীপুরের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, “মামলার বাদী উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। চূড়ান্ত রায় না পাওয়া পর্যন্ত কেউ অবৈধ স্থাপনা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেষ বিদায় ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’ও না মেলায় মানবিক প্রশ্নও উঠে এসেছে।
বাড়ি নং-৬৬, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর -১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০
মোবাইল নং: ০১৯৮৫২৩১১১২
Copyright © 2026 টপ নিউজ প্রতিদিন | বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.